Saturday, February 14, 2026

ভূ-রাজনিতি



Geopolitics-এর বাংলা অর্থ হলো ভূ-রাজনিতিবা ভৌগোলিক রাজনিতি। সাধারণত, এটি আন্তর্জাতিক সর্ম্পকের একটি শাখা। যেখানে, কোনো দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক সম্পদ, সামরিক কাঠামো, ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ভিত্তিতে সেই দেশের বা রাষ্ট্রের প্রভাব ও সমতা বিশ্লেষন করা যায়। এই শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন, সুইডিশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী "রুডল্ফ কেজেলেন" মূলত বিংশ শতাব্দির শুরুর দিকে। এর দ্বারা বিশ্ব রাজনিতির থেকে সমতার ভারসাম্য, ভারসাম্য আঞ্চলিক প্রভাব এবং বানিজ্যক বা সামরিক কৌশল নির্ধারন করা হয়। আরোবলা যায়, ভূ-রাজনিতি" হলো ভৌগোলিক অবস্থান কীভাবে আন্তর্জাতিক রাজনিতিকে নিয়ন্ত্রন করে তার বিশ্লেষণ। এখানে বলা প্রয়োজন যে, ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রাকৃতিক কারনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ গুলি ভারতের সাথে বৈশ্বিক বার্নিজ্য করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এতে বোঝায় ভারতে ভূ রাজনিতির কঠোর বা মজবুত মনোভাব পরিস্ফুটিত রয়েছে।

বর্তমানে ভারতের সাথে মার্কিন মুক্ত রাষ্ট্রে বানিজ্য চুক্তি!

ভারত-মার্কিন বানিজ্য ভূ-রাজনিতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো তীব্র "বানিজ্য যুদ্ধ। 2025 সালে অগ্রসর শুল্ক চাপানো র পর ২ ফেব্রুয়ারি 2026-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবাটি ঐতিহাসিক অন্তবর্তী বানিজ্য চুক্তি ঘোষনা করেন।

শুল্ক কমানো (Tariff Slash): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক 50% থেকে কমিয়ে 18% করেছে। এছাড়াও, ২০২5-এ রাশিয়ার থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে, অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়ে ছিল 25% তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ভারতের প্রতিশ্রুতি : ভারত-মার্কিন শিল্প পণ্যের ওপর শুল্ক অন্যে' (zero Tariff) করার দিকে এগোতে রাজি হয়েছে। আগামী 5 বছরে প্রায় 5০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন শক্তি, প্রযুক্তি এবং কৃষি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত।

বেসামরিক পারমানবিক পুনরুজ্জীবন: ভারতের শান্তি আইন, 2025 (SHANTI Act 2025) কে কাজে লাগিয়ে, এই চুক্তি ভারতের বেসামরিক পারমানবিক জ্বালানি খাতে মার্কিন-মুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহনকে বৃদ্ধিা করার পথ প্রশস্ত করেছে।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে মার্কিন মুক্ত-'রাষ্ট্রের সাথে দ্বন্দ্ব লেগেই চলেছে। এই   পরিস্থিতি বর্তমানে ভূ-রাজনিতিতে ভারতের সাথে মার্কিন বানিজ্য চুক্তি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনিতির একটি উল্লেখ যোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এতে বিশ্ব শান্তি ও আত্মপ্রকাশের একটি সুদর্শন পদ্ম পরিস্ফুট হয়েছে।

Source: রাজনিতি এবং ভূ-রাজনিতি,  Harsh V. Pant

Contributed by: 

Subhadeep Mandal


Subhadeep is a Fourth semester student majoring in Political Science at Maynaguri College.

বিশ্বশক্তি হিসেবে চীনের উত্থান: রাজনৈতিক প্রভাব

 

বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে চীন একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। একসময় চীন ছিল একটি উন্নয়নশীল দেশ, কিন্তু এখন তা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী সরকারের কারণে চীনের এই উত্থান সম্ভব হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে নানা ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব পড়ছে।

প্রথমত, চীনের উত্থান যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করছে। আগে বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রই ছিল সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ। এখন চীন সেই প্রভাব কমিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে বিশ্ব ধীরে ধীরে একক শক্তির বদলে একাধিক শক্তির দিকে এগোচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, চীন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় নিজের ভূমিকা বাড়াচ্ছে। জাতিসংঘসহ অনেক বিশ্ব সংস্থায় চীন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি চীন “বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ” নামে একটি বড় প্রকল্প শুরু করেছে, যার মাধ্যমে অনেক দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও শক্ত হচ্ছে। এতে চীনের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ছে।

তৃতীয়ত, চীনের উত্থানের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগর—এই বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। এর প্রভাব পুরো বিশ্বের ওপর পড়ছে।

চতুর্থত, অনেক উন্নয়নশীল দেশ চীনের উন্নয়ন মডেলকে অনুসরণ করতে আগ্রহী হচ্ছে। কারণ চীন অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। এতে কিছু দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠছে।

সবশেষে বলা যায়, বিশ্বশক্তি হিসেবে চীনের উত্থান বিশ্ব রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। এই উত্থান একদিকে যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি অন্যদিকে নতুন সমস্যা ও সংঘাতের আশঙ্কাও বাড়াচ্ছে।

Image Courtesy: https://share.google/SzYo2jdVTfWSOvCIo

Contributed by:

Hriday Krishna Das

Hriday is a Sixth semester student at the Dept. of Political Science, Maynaguri College majoring in Political Science.

UGC ইকুইটি রেগুলেশন 2026: প্রসঙ্গ ও বিতর্ক

ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ফের একবার নীতিগত বিতর্কের কেন্দ্রে। ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট কমিশন (UGC) কর্তৃক ২০২৬ সালের জন্য প্রস্তাবিত নতুন ইকুইটি রেগুলেশন বা অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন রুলস কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রশ্ন, উদ্বেগ এবং প্রতিবাদের সুর শোনা যাচ্ছে। যেখানে একদিকে এই নির্দেশিকা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমতা ও ন্যায় নিশ্চিত করার দাবি করছে, সেখানে অন্যদিকে এর কিছু ধারা সামাজিক বিভাজন ও সাংবিধানিক মূল্যবোধকে ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন তুলে ধরছে। ফলে বিষয়টি এখন আর কেবল প্রশাসনিক নয়-এটি জাতীয় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

UGC-এর ভূমিকা : ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। UGC-এর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হল বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য প্রশাসনিক ও নীতিগত নির্দেশিকা প্রণয়ন করা এবং সেগুলির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা। এই ধারাবাহিকতায়, গত ১৩ জানুয়ারি UGC একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করে, যা মূলত ২০১২ সালের জাতিভিত্তিক বৈষম্য বিরোধী নিয়মের ব্যাখ্যার সঙ্গে যুক্ত। পূর্ববর্তী নিয়ম অনুযায়ী, কাস্ট বেসড ডিসক্রিমিনেশন বা জাতিভিত্তিক বৈষম্য বলতে শুধুমাত্র SC, ST এবং OBC শ্রেণীর নাগরিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বৈষম্যকেই বোঝানো হতো। এর ফলে সাধারণ বা অসংরক্ষিত শ্রেণীর পড়ুয়া ও অধ্যাপকরা জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে কার্যত আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিলেন—এটাই এই বিতর্কের মূল কেন্দ্রে উঠে আসে।

প্রেক্ষাপট : বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ যেভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে, তা নিয়ে সমাজের নানা মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। রোহিত ভেমুলা ও পায়েল তাদভি–র মতো ঘটনাগুলি এই ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। বহু ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সময়মতো ও ন্যায্যভাবে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটেই UGC-কে এমন একটি শক্তিশালী ও কার্যকর বিধিমালা তৈরির দাবি উঠেছিল, যা কেবল কাগজে-কলমে নয়, বাস্তব ক্ষেত্রেও প্রয়োগযোগ্য হবে। নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য ছিল বৈষম্য সংক্রান্ত অভিযোগের একটি বিস্তৃত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংজ্ঞা তৈরি করা, যাতে কোনও পড়ুয়া বা শিক্ষক নিজেকে প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার শিকার মনে না করেন।

বিতর্ক ও সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান : তবে UGC-র এই নতুন ও বিতর্কিত বিধিমালা প্রকাশের পর দেশজুড়ে নানা মহলে আপত্তি ওঠে। সমালোচকদের মতে, এই নিয়ম সমাজে আরও বিভাজন তৈরি করতে পারে এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থার মূল ভাবনাকে দুর্বল করতে পারে। রাজনৈতিক চাপ, বিক্ষোভ এবং জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে বিষয়টি গড়ায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে।

বর্তমানে সুপ্রিম কোর্ট এই নতুন নির্দেশিকার উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এর সামাজিক প্রভাব গভীর হতে পারে, তাই চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত এই নিয়ম কার্যকর করা সমীচীন নয়।

UGC ২০২৬-এর ইকুইটি রেগুলেশন আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করার পথ কোনটি? শুধুমাত্র নিয়ম প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, তার ন্যায্য প্রয়োগ ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাও সমানভাবে জরুরি। এই বিতর্ক দেখিয়ে দেয় যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেবল জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, বরং সমাজের মূল্যবোধ গঠনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

Source:

Links: https://vajiramandravi.com

https://scconline.com


Contributed by:

Arpita Sarkar

Arpita is a Fourth Semester student at the Dept. of Political Science, Maynaguri College majoring in Political Science.

ভূ-রাজনিতি

Geopolitics-এর বাংলা অর্থ হলো ভূ-রাজনিতিবা ভৌগোলিক রাজনিতি। সাধারণত, এটি আন্তর্জাতিক সর্ম্পকের একটি শাখা। যেখানে, কোনো দেশের ভৌগোলিক অবস্থান...