Showing posts with label China. Show all posts
Showing posts with label China. Show all posts

Wednesday, September 23, 2026

মোদী-শি বৈঠক: ভারত-চীন সম্পর্কে নতুন কূটনৈতিক বার্তা

 


সীমান্তে শান্তি, বাণিজ্য ও যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্ব :

১৮ তম BRICS শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে (১২ই সেপ্টেম্বর ২০২৬) নয়া দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় । সাত বছর পর শি জিনপিং-এর ভারত সফর এবং দুই নেতার এই বৈঠক ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করেছে ।

বৈঠকে দুই নেতা ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক  সম্পর্ককে দীর্ঘ মেয়াদী ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন । ভারত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন , দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন বিরোধে পরিণত না হয় । পারস্পারিক সম্মান , পারস্পরিক সংবেদনশীলতা এবং পারস্পারিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হয়। 

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সীমান্ত পরিস্থিতি । ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সীমান্ত পরিস্থিতি বরাবরই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । বৈঠকে পূর্ব লাদাক-সহ সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় । প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্ট করেন যে সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নতির অন্যতম প্রধান শর্ত । একই সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতা কার্যকর ভাবে মেনে চলা এবং সীমান্ত-সংক্রান্ত সমস্যা গুলির সমাধানে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপরে জোর দেওয়া হয় ।

লাদাখ ও গালওয়ান প্রসঙ্গ

ভারত-চীন সীমান্ত সমস্যার সাম্প্রতিক ইতিহাসে পূর্ব লাদাখ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ । ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন এবং এরপর দুই দেশের সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য উত্তেজনা তৈরি হয় । পরবর্তীতে সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে একাধিক আলোচনার মাধ্যমে সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাই বর্তমান ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে লাদাখ ও গালওয়ান পর্বের সমাধান ও সীমান্তে শাস্তি বজায় রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে ।

এছাড়াও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, ব্যবসায়িক যোগাযোগ, সরবরাহ-শৃঙ্খলা এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয় । দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ভারসাম্যহীনতা এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে একে অপরের উদ্বেগ দূর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে । পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও যাতায়াত বৃদ্ধির  উপরে গুরুত্ব দেওয়া হয় ।

২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্কে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনা ছিল । পরবর্তী সময়ে সীমান্তে উত্তেজনা কমানো এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ পুনরায় বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৬ সালের এই বৈঠক সেই ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে উঠে এসেছে । তবে সীমান্ত ও বাণিজ্য-সংক্রান্ত কিছু তথ্য এখনও আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে ।

মোদী-শি বৈঠক ভারত ও চীনের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত । সীমান্তে শান্তি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশ সম্পর্কে আরও স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে । ভবিষ্যতে এই আলোচনার বাস্তব ফলাফল দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের  গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে ।

Source: Press  Information Bureau (PIB), Government of India.

Contributed by:

Barsha Siddhya

Barsha is a Third Semester student of Political Science Major studying at Maynaguri College.

Saturday, February 14, 2026

বিশ্বশক্তি হিসেবে চীনের উত্থান: রাজনৈতিক প্রভাব

 

বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে চীন একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। একসময় চীন ছিল একটি উন্নয়নশীল দেশ, কিন্তু এখন তা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী সরকারের কারণে চীনের এই উত্থান সম্ভব হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে নানা ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব পড়ছে।

প্রথমত, চীনের উত্থান যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করছে। আগে বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রই ছিল সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ। এখন চীন সেই প্রভাব কমিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে বিশ্ব ধীরে ধীরে একক শক্তির বদলে একাধিক শক্তির দিকে এগোচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, চীন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় নিজের ভূমিকা বাড়াচ্ছে। জাতিসংঘসহ অনেক বিশ্ব সংস্থায় চীন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি চীন “বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ” নামে একটি বড় প্রকল্প শুরু করেছে, যার মাধ্যমে অনেক দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও শক্ত হচ্ছে। এতে চীনের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ছে।

তৃতীয়ত, চীনের উত্থানের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগর—এই বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। এর প্রভাব পুরো বিশ্বের ওপর পড়ছে।

চতুর্থত, অনেক উন্নয়নশীল দেশ চীনের উন্নয়ন মডেলকে অনুসরণ করতে আগ্রহী হচ্ছে। কারণ চীন অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। এতে কিছু দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠছে।

সবশেষে বলা যায়, বিশ্বশক্তি হিসেবে চীনের উত্থান বিশ্ব রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। এই উত্থান একদিকে যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি অন্যদিকে নতুন সমস্যা ও সংঘাতের আশঙ্কাও বাড়াচ্ছে।

Image Courtesy: https://share.google/SzYo2jdVTfWSOvCIo

Contributed by:

Hriday Krishna Das

Hriday is a Sixth semester student at the Dept. of Political Science, Maynaguri College majoring in Political Science.

রাজনীতি কি শুধুই ক্ষমতার লড়াই, নাকি আমাদের প্রতিদিনের বেঁচে থাকা? গণতন্ত্র, যুবসমাজ ও আমার ভাবনা

সত্যি বলতে  রাজনীতি বিষয়টা নিয়ে আগে আমার অনেক ভুল ধারণা ছিল আমি ভাবতাম রাজনীতি মানেই তো টিভিতে দেখা চিৎকার চেঁচামিটি ভোটের আগে মিছিল আর ফে...