সত্যি বলতে রাজনীতি বিষয়টা নিয়ে আগে আমার অনেক ভুল ধারণা ছিল আমি ভাবতাম রাজনীতি মানেই তো টিভিতে দেখা চিৎকার চেঁচামিটি ভোটের আগে মিছিল আর ফেসবুকে একে অপরকে গালিগালাজ করা কিন্তু যবে থেকে আমি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে যুক্ত হয়েছি , আমার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্যার ম্যামদের ক্লাস করে ,বিভিন্ন বই পড়ে এবং আমাদের চারপাশে হওয়া ঘটনা গুলি থেকে যতটুকু বুঝতে পেরেছি তাতে রাজনীতি নিয়ে আমার মনে যে ভাবনাটা তৈরি হয়েছে সেটিই এখানে তুলে ধরলাম।
বর্তমানে আমার মনে রাজনীতি নিয়ে যে ধারাটা তৈরি হয়েছে তাতে দেখলাম আমার জীবনের প্রতিটা মুহূর্তই তো রাজনীতির সাথে জড়িয়ে।
আমি যখন সকালে কলেজে আসার জন্য বাসে উঠি, বাসের ভাড়া কত হবে সেটা ঠিক করে রাজনীতি। আমার কলেজে নতুন বিল্ডিং হবে কিনা, লাইব্রেরিতে নতুন বই আসবে কিনা, ক্যান্টিনে খাবারের দাম কত হবে - এগুলো সবই তো কোনো না কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তাহলে আমি কিভাবে বলি যে আমি রাজনীতির বাইরে?
আমার কাছে রাজনীতির সংজ্ঞা :
আগে ভাবতাম রাজনীতি মানে নেতা হওয়া। এখন বুঝি, রাজনীতি মানে হলো নীতি। দেশ কিভাবে চলবে, তার নীতি। আমাদের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ক্লাসে পড়েছিলাম, গ্রিক শব্দ 'Polis' থেকে 'Politics' শব্দটা এসেছে, যার মানে হলো নগর-রাষ্ট্র। অর্থাৎ, কিভাবে আমরা সবাই একসাথে ভালো থাকব, তার চিন্তাই হলো রাজনীতি।
আমাদের ভারতের মতো দেশে এই চিন্তাটা আরও জরুরি। কারণ আমাদের দেশটা এত বৈচিত্র্যময়। এত ভাষা, এত ধর্ম, এত জাতি। এইসবকে একসাথে নিয়ে চলার যে কৌশল, সেটাই তো ভারতের রাজনীতি।
কেন আমি একজন ছাত্র হিসেবে হতাশ হই?
আজকাল রাজনীতি দেখলে মাঝে মাঝে খুব খারাপ লাগে। যখন দেখি একজন শিক্ষিত ও সৎ মানুষের থেকে একজন বাহুবলী নেতার দাম বেশি, যখন দেখি ভোটের আগে ধর্মের নামে মানুষকে ভাগ করা হয়, তখন মনে হয় - এই জন্যই কি আমাদের সংবিধান রচয়িতারা এত কষ্ট করেছিলেন?
ডঃ বি. আর. আম্বেদকর বলেছিলেন, "সংবিধান যতই ভালো হোক না কেন, তা চালানোর মানুষগুলো যদি খারাপ হয়, তাহলে সংবিধানও খারাপ হয়ে যাবে।"
আমার মনে হয়, আমরা যুবসমাজ যদি চুপ করে থাকি, তাহলেই খারাপ মানুষগুলো সুযোগ পেয়ে যাবে।
তাহলে আমাদের কি করা উচিত?
আমি কোনো দলের সমর্থক হিসেবে বলছি না, একজন ছাত্র হিসেবে বলছি।
প্রথমত, আমাদের পড়তে হবে।
শুধু হোয়াটসঅ্যাপ ফরোয়ার্ড বা ফেসবুক পোস্ট দেখে রাজনীতি শেখা যায় না। আমাদের সংবিধানটা একবার পড়া উচিত। জানা উচিত, আমাদের মৌলিক অধিকার কি, মৌলিক কর্তব্য কি।
দ্বিতীয়ত, আমাদের প্রশ্ন করতে শিখতে হবে।
আমার মা বলেন, "যে প্রশ্ন করে না, সে কিছু শেখে না।" সরকার যেই আসুক, তাকে প্রশ্ন করা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। আমাদের স্কলারশিপের টাকা সময়মতো আসছে না কেন? আমাদের দৈনন্দিন জীবনে জিনিস পত্রের এত দাম বাড়ছে কেনো ?এই প্রশ্নগুলো করলে কেউ দেশদ্রোহী হয়ে যায় না, বরং আরো ভালো নাগরিক হওয়া যায়।
তৃতীয়ত, আমাদের নিজেদের বদলাতে হবে।
আমরা দুর্নীতি নিয়ে গালাগালি করি, কিন্তু নিজেরা লাইনে না দাঁড়িয়ে আগে যাওয়ার চেষ্টা করি। আমরা চাই নেতারা সৎ হোক, কিন্তু আমরা নিজেরা পরীক্ষায় টুকলি করি। গান্ধীজি তাই বলেছিলেন -
"Be the change that you wish to see in the world"
আমি বিশ্বাস করি, রাজনীতি নোংরা নয়, রাজনীতির মধ্যে থাকা কিছু নোংরা মানুষ রাজনীতিটাকে নোংরা করেছে। আর সেটা পরিষ্কার করার দায়িত্ব আমাদের, এই নতুন প্রজন্মের।
আমি জানি না আমি কতটা ভালো লিখতে পেরেছি, রাজনীতি নিয়ে আমার জ্ঞান হয়তো খুব কম, কিন্তু আমি বুঝেছি, রাজনীতি থেকে পালিয়ে বাঁচা যায় না। রাজনীতিকে ভালোবেসে, বুঝে, তাকে ভালো পথে নিয়ে যাওয়াটাই আমাদের কাজ।
আমার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ম্যামদের অসংখ্য ধন্যবাদ তাদের জন্যই আমি এতটা ভাবতে পেরেছি এবং আমার ভাবনাটাকে আমি তুলে ধরতে পেরেছি ।
Contributed by: Saraswati Biswas
Saraswati is a Third Semester student Majoring in Political Science at Maynaguri College.






.jpeg)






