Wednesday, September 23, 2026

রাজনীতি কি শুধুই ক্ষমতার লড়াই, নাকি আমাদের প্রতিদিনের বেঁচে থাকা? গণতন্ত্র, যুবসমাজ ও আমার ভাবনা


সত্যি বলতে  রাজনীতি বিষয়টা নিয়ে আগে আমার অনেক ভুল ধারণা ছিল আমি ভাবতাম রাজনীতি মানেই তো টিভিতে দেখা চিৎকার চেঁচামিটি ভোটের আগে মিছিল আর ফেসবুকে একে অপরকে গালিগালাজ করা কিন্তু যবে থেকে আমি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে যুক্ত হয়েছি , আমার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্যার ম্যামদের ক্লাস   করে ,বিভিন্ন বই পড়ে এবং আমাদের চারপাশে হওয়া ঘটনা গুলি থেকে যতটুকু বুঝতে পেরেছি তাতে রাজনীতি নিয়ে আমার মনে যে ভাবনাটা তৈরি হয়েছে সেটিই এখানে তুলে ধরলাম।

বর্তমানে আমার মনে রাজনীতি নিয়ে যে ধারাটা তৈরি হয়েছে তাতে দেখলাম আমার জীবনের প্রতিটা মুহূর্তই তো রাজনীতির সাথে জড়িয়ে।

আমি যখন সকালে কলেজে আসার জন্য বাসে উঠি, বাসের ভাড়া কত হবে সেটা ঠিক করে রাজনীতি। আমার কলেজে নতুন বিল্ডিং হবে কিনা, লাইব্রেরিতে নতুন বই আসবে কিনা, ক্যান্টিনে খাবারের দাম কত হবে - এগুলো সবই তো কোনো না কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তাহলে আমি কিভাবে বলি যে আমি রাজনীতির বাইরে?

আমার কাছে রাজনীতির সংজ্ঞা :

আগে ভাবতাম রাজনীতি মানে নেতা হওয়া। এখন বুঝি, রাজনীতি মানে হলো নীতি। দেশ কিভাবে চলবে, তার নীতি। আমাদের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ক্লাসে পড়েছিলাম, গ্রিক শব্দ 'Polis' থেকে 'Politics' শব্দটা এসেছে, যার মানে হলো নগর-রাষ্ট্র। অর্থাৎ, কিভাবে আমরা সবাই একসাথে ভালো থাকব, তার চিন্তাই হলো রাজনীতি।

আমাদের ভারতের মতো দেশে এই চিন্তাটা আরও জরুরি। কারণ আমাদের দেশটা এত বৈচিত্র্যময়। এত ভাষা, এত ধর্ম, এত জাতি। এইসবকে একসাথে নিয়ে চলার যে কৌশল, সেটাই তো ভারতের রাজনীতি।

কেন আমি একজন ছাত্র হিসেবে হতাশ হই?

আজকাল রাজনীতি দেখলে মাঝে মাঝে খুব খারাপ লাগে। যখন দেখি একজন শিক্ষিত ও সৎ মানুষের থেকে একজন বাহুবলী নেতার দাম বেশি, যখন দেখি ভোটের আগে ধর্মের নামে মানুষকে ভাগ করা হয়, তখন মনে হয় - এই জন্যই কি আমাদের সংবিধান রচয়িতারা এত কষ্ট করেছিলেন?

ডঃ বি. আর. আম্বেদকর বলেছিলেন, "সংবিধান যতই ভালো হোক না কেন, তা চালানোর মানুষগুলো যদি খারাপ হয়, তাহলে সংবিধানও খারাপ হয়ে যাবে।"

আমার মনে হয়, আমরা যুবসমাজ যদি চুপ করে থাকি, তাহলেই খারাপ মানুষগুলো সুযোগ পেয়ে যাবে।

তাহলে আমাদের কি করা উচিত?

আমি কোনো দলের সমর্থক হিসেবে বলছি না, একজন ছাত্র হিসেবে বলছি।

প্রথমত, আমাদের পড়তে হবে।

শুধু হোয়াটসঅ্যাপ ফরোয়ার্ড বা ফেসবুক পোস্ট দেখে রাজনীতি শেখা যায় না। আমাদের সংবিধানটা একবার পড়া উচিত। জানা উচিত, আমাদের মৌলিক অধিকার কি, মৌলিক কর্তব্য কি।

দ্বিতীয়ত, আমাদের প্রশ্ন করতে শিখতে হবে।

আমার মা বলেন, "যে প্রশ্ন করে না, সে কিছু শেখে না।" সরকার যেই আসুক, তাকে প্রশ্ন করা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। আমাদের স্কলারশিপের টাকা সময়মতো আসছে না কেন? আমাদের দৈনন্দিন জীবনে জিনিস পত্রের এত দাম বাড়ছে কেনো ?এই প্রশ্নগুলো করলে কেউ দেশদ্রোহী হয়ে যায় না, বরং আরো ভালো নাগরিক হওয়া যায়।

তৃতীয়ত, আমাদের নিজেদের বদলাতে হবে। 

আমরা দুর্নীতি নিয়ে গালাগালি করি, কিন্তু নিজেরা লাইনে না দাঁড়িয়ে আগে যাওয়ার চেষ্টা করি। আমরা চাই নেতারা সৎ হোক, কিন্তু আমরা নিজেরা পরীক্ষায় টুকলি করি। গান্ধীজি তাই বলেছিলেন -

"Be the change that you wish to see in the world"

আমি বিশ্বাস করি, রাজনীতি নোংরা নয়, রাজনীতির মধ্যে থাকা কিছু নোংরা মানুষ রাজনীতিটাকে নোংরা করেছে। আর সেটা পরিষ্কার করার দায়িত্ব আমাদের, এই নতুন প্রজন্মের।

আমি জানি না আমি কতটা ভালো লিখতে পেরেছি, রাজনীতি নিয়ে আমার জ্ঞান হয়তো খুব কম, কিন্তু আমি বুঝেছি, রাজনীতি থেকে পালিয়ে বাঁচা যায় না। রাজনীতিকে ভালোবেসে, বুঝে, তাকে ভালো পথে নিয়ে যাওয়াটাই আমাদের কাজ।

 আমার রাষ্ট্রবিজ্ঞান‌ বিভাগের ম্যামদের অসংখ্য ধন্যবাদ তাদের জন্যই আমি এতটা ভাবতে পেরেছি এবং আমার ভাবনাটাকে আমি তুলে ধরতে পেরেছি ।

Image Courtesy: https://www.google.com/search?sca_esv=918fcbc529497425&sxsrf=APpeQnu1gj7cYTHRIfTMrVDRl8gERidn5Q:1790153715022&udm=2&fbs=ABfTbFVyMZGZf1hfvX9uKjN_-G8c4u0nXx4bEIpwm1lnNH832QGGMdFXpDyzkQgEdtB8w9zZ67Faapx8wIWp8O3JpX8ZbooJTg6IC0i9eLmD380spFxNnOkLL2PutNy6eMVF_wEM4-gfqmM78IxB34RK6YTsKKHIT_AzAgLMyJ1gpf4P_j_OXPJLIwTXIL1-FZEJMhV1oLtseLaSi8XmwElB7vHVSA2AJA&q=student+and+politics+image&sa=X&ved=2ahUKEwjlvpuiqoSXAxVWVmwGHWNbNfkQtKgLegQIEhAB&biw=1366&bih=641&dpr=1#sv=CAMSURoyKhBlLU84YUFZVUQ0bHRsc2hNMg5POGFBWVVENGx0bHNoTToOckRDRENfa2Q3Mm80VE0gBCoXCgFzEhBlLU84YUFZVUQ0bHRsc2hNGAEwARgHIIjy6LcMSggQARgBIAEoAQ

Contributed by: Saraswati Biswas

Saraswati is a Third Semester student Majoring in Political Science at Maynaguri College.



মোদী-শি বৈঠক: ভারত-চীন সম্পর্কে নতুন কূটনৈতিক বার্তা

 


সীমান্তে শান্তি, বাণিজ্য ও যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্ব :

১৮ তম BRICS শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে (১২ই সেপ্টেম্বর ২০২৬) নয়া দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় । সাত বছর পর শি জিনপিং-এর ভারত সফর এবং দুই নেতার এই বৈঠক ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করেছে ।

বৈঠকে দুই নেতা ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক  সম্পর্ককে দীর্ঘ মেয়াদী ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন । ভারত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন , দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন বিরোধে পরিণত না হয় । পারস্পারিক সম্মান , পারস্পরিক সংবেদনশীলতা এবং পারস্পারিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হয়। 

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সীমান্ত পরিস্থিতি । ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সীমান্ত পরিস্থিতি বরাবরই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । বৈঠকে পূর্ব লাদাক-সহ সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় । প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্ট করেন যে সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নতির অন্যতম প্রধান শর্ত । একই সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতা কার্যকর ভাবে মেনে চলা এবং সীমান্ত-সংক্রান্ত সমস্যা গুলির সমাধানে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপরে জোর দেওয়া হয় ।

লাদাখ ও গালওয়ান প্রসঙ্গ

ভারত-চীন সীমান্ত সমস্যার সাম্প্রতিক ইতিহাসে পূর্ব লাদাখ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ । ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন এবং এরপর দুই দেশের সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য উত্তেজনা তৈরি হয় । পরবর্তীতে সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে একাধিক আলোচনার মাধ্যমে সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাই বর্তমান ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে লাদাখ ও গালওয়ান পর্বের সমাধান ও সীমান্তে শাস্তি বজায় রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে ।

এছাড়াও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, ব্যবসায়িক যোগাযোগ, সরবরাহ-শৃঙ্খলা এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয় । দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ভারসাম্যহীনতা এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে একে অপরের উদ্বেগ দূর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে । পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও যাতায়াত বৃদ্ধির  উপরে গুরুত্ব দেওয়া হয় ।

২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্কে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনা ছিল । পরবর্তী সময়ে সীমান্তে উত্তেজনা কমানো এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ পুনরায় বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৬ সালের এই বৈঠক সেই ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে উঠে এসেছে । তবে সীমান্ত ও বাণিজ্য-সংক্রান্ত কিছু তথ্য এখনও আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে ।

মোদী-শি বৈঠক ভারত ও চীনের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত । সীমান্তে শান্তি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশ সম্পর্কে আরও স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে । ভবিষ্যতে এই আলোচনার বাস্তব ফলাফল দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের  গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে ।

Source: Press  Information Bureau (PIB), Government of India.

Contributed by:

Barsha Siddhya

Barsha is a Third Semester student of Political Science Major studying at Maynaguri College.

Thursday, September 17, 2026

BRICS SUMMIT 2026: এবার নেতৃত্বে ভারত।


18 তম BRICS শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো 12 ও 13 সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে। ভারতের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং Global South - এর স্বার্থের মতো বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

এই সম্মেলনে 11টি সদস্য দেশ অংশগ্রহণ করে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়াও। ভারতের নেতৃত্বে এবারের BRICS সম্মেলন শুধু একটি আন্তর্জাতিক বৈঠক ছিল না, এর মাধ্যমে পরিবর্তনশীল বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের গুরুত্ব ও ভূমিকা আরও পরিষ্কার হয়ে ওঠে।

BRICS 2026 সম্মেলনের মূল ভাবনা ছিল-

" Building for Resilience, Innovation,

Cooperation and Sustainability"

BRICS 2026-এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত

i. সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স': 2025 সালের পহেলগাঁও হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

ii. জাতিসংঘের সংস্কার: বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

ⅲ. স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যঃ সদস্য দেশগুলির মধ্যে নিজস্ব বা স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য ও লেনদেন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

iv. AI তে সহযোগিতা: AI যেন নিরাপদ ও সবার জন্য উপকারী হয়, সেই বিষয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

v. একতরফা শুল্কের বিরোধিতা: একতরফা বাণিজ্যিক শুল্কের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়েছে  এবং WTO-এর নিয়ম মেনে দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ব্যবস্থা আরও ভালো করার কথা বলা হয়েছে।

vi. জলবায়ু ও সুস্থায়ী উন্নয়ন: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং সুস্থায়ী উন্নয়নের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই সম্মেলনে ভারতের ভূমিকাঃ

2026 সালের BRICS সম্মেলন ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ এবারের সম্মেলন ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের মূল লক্ষ্য ছিল BRICS-এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানো।

ভারত এবারের সম্মেলন-এ Global South-এর দেশগুলোর সমস্যাগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতামত যাতে আরও গুরুত্ব পায়, সেই বিষয়েও ভারত কথা বলে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি BRICS সম্মেলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে "Inclusive Global Governance and Strengthening Multilateralism" বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য :

ভারতের জন্য এই সম্মেলনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য হলো বিভিন্ন সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সদস্য দেশগুলিকে একটি যৌথ ঘোষণার অধীনে নিয়ে আসা। 2025 সালের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে এই সম্মেলনে। ভারতের জন্য  এটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা যায়।

BRICS-এর সমস্যা:

BRICS-এর সামনে সমস্যা হল সদস্য দেশগুলির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ অনেক ক্ষেত্রে আলাদা। এবং সবথেকে উল্লেখযোগ্য সমস্যা হলো ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত-সংক্রান্ত সমস্যা এবং তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা। এছাড়াও রাশিয়া, ইরান ও অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে পশ্চিম বিশ্বের সম্পর্ক ও জটিল।

Source:https://youtu.be/J6yew3hZWFs?si=sZzcfjrTNRZr-ib-

Image Courtesy: https://www.brics2026.gov.in/gallery/

 Contributed by: Bhajan Chanda

Bhajan is a Third semester student majoring in Political Science at Maynaguri College.

Saturday, February 14, 2026

ভূ-রাজনিতি



Geopolitics-এর বাংলা অর্থ হলো ভূ-রাজনিতিবা ভৌগোলিক রাজনিতি। সাধারণত, এটি আন্তর্জাতিক সর্ম্পকের একটি শাখা। যেখানে, কোনো দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক সম্পদ, সামরিক কাঠামো, ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ভিত্তিতে সেই দেশের বা রাষ্ট্রের প্রভাব ও সমতা বিশ্লেষন করা যায়। এই শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন, সুইডিশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী "রুডল্ফ কেজেলেন" মূলত বিংশ শতাব্দির শুরুর দিকে। এর দ্বারা বিশ্ব রাজনিতির থেকে সমতার ভারসাম্য, ভারসাম্য আঞ্চলিক প্রভাব এবং বানিজ্যক বা সামরিক কৌশল নির্ধারন করা হয়। আরোবলা যায়, ভূ-রাজনিতি" হলো ভৌগোলিক অবস্থান কীভাবে আন্তর্জাতিক রাজনিতিকে নিয়ন্ত্রন করে তার বিশ্লেষণ। এখানে বলা প্রয়োজন যে, ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রাকৃতিক কারনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ গুলি ভারতের সাথে বৈশ্বিক বার্নিজ্য করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এতে বোঝায় ভারতে ভূ রাজনিতির কঠোর বা মজবুত মনোভাব পরিস্ফুটিত রয়েছে।

বর্তমানে ভারতের সাথে মার্কিন মুক্ত রাষ্ট্রে বানিজ্য চুক্তি!

ভারত-মার্কিন বানিজ্য ভূ-রাজনিতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো তীব্র "বানিজ্য যুদ্ধ। 2025 সালে অগ্রসর শুল্ক চাপানো র পর ২ ফেব্রুয়ারি 2026-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবাটি ঐতিহাসিক অন্তবর্তী বানিজ্য চুক্তি ঘোষনা করেন।

শুল্ক কমানো (Tariff Slash): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক 50% থেকে কমিয়ে 18% করেছে। এছাড়াও, ২০২5-এ রাশিয়ার থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে, অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়ে ছিল 25% তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ভারতের প্রতিশ্রুতি : ভারত-মার্কিন শিল্প পণ্যের ওপর শুল্ক অন্যে' (zero Tariff) করার দিকে এগোতে রাজি হয়েছে। আগামী 5 বছরে প্রায় 5০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন শক্তি, প্রযুক্তি এবং কৃষি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত।

বেসামরিক পারমানবিক পুনরুজ্জীবন: ভারতের শান্তি আইন, 2025 (SHANTI Act 2025) কে কাজে লাগিয়ে, এই চুক্তি ভারতের বেসামরিক পারমানবিক জ্বালানি খাতে মার্কিন-মুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহনকে বৃদ্ধিা করার পথ প্রশস্ত করেছে।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে মার্কিন মুক্ত-'রাষ্ট্রের সাথে দ্বন্দ্ব লেগেই চলেছে। এই   পরিস্থিতি বর্তমানে ভূ-রাজনিতিতে ভারতের সাথে মার্কিন বানিজ্য চুক্তি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনিতির একটি উল্লেখ যোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এতে বিশ্ব শান্তি ও আত্মপ্রকাশের একটি সুদর্শন পদ্ম পরিস্ফুট হয়েছে।

Source: রাজনিতি এবং ভূ-রাজনিতি,  Harsh V. Pant

Contributed by: 

Subhadeep Mandal

Subhadeep is a Fourth semester student majoring in Political Science at Maynaguri College.

বিশ্বশক্তি হিসেবে চীনের উত্থান: রাজনৈতিক প্রভাব

 

বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে চীন একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। একসময় চীন ছিল একটি উন্নয়নশীল দেশ, কিন্তু এখন তা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী সরকারের কারণে চীনের এই উত্থান সম্ভব হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে নানা ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব পড়ছে।

প্রথমত, চীনের উত্থান যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করছে। আগে বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রই ছিল সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ। এখন চীন সেই প্রভাব কমিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে বিশ্ব ধীরে ধীরে একক শক্তির বদলে একাধিক শক্তির দিকে এগোচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, চীন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় নিজের ভূমিকা বাড়াচ্ছে। জাতিসংঘসহ অনেক বিশ্ব সংস্থায় চীন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি চীন “বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ” নামে একটি বড় প্রকল্প শুরু করেছে, যার মাধ্যমে অনেক দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও শক্ত হচ্ছে। এতে চীনের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ছে।

তৃতীয়ত, চীনের উত্থানের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগর—এই বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। এর প্রভাব পুরো বিশ্বের ওপর পড়ছে।

চতুর্থত, অনেক উন্নয়নশীল দেশ চীনের উন্নয়ন মডেলকে অনুসরণ করতে আগ্রহী হচ্ছে। কারণ চীন অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। এতে কিছু দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠছে।

সবশেষে বলা যায়, বিশ্বশক্তি হিসেবে চীনের উত্থান বিশ্ব রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। এই উত্থান একদিকে যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি অন্যদিকে নতুন সমস্যা ও সংঘাতের আশঙ্কাও বাড়াচ্ছে।

Image Courtesy: https://share.google/SzYo2jdVTfWSOvCIo

Contributed by:

Hriday Krishna Das

Hriday is a Sixth semester student at the Dept. of Political Science, Maynaguri College majoring in Political Science.

UGC ইকুইটি রেগুলেশন 2026: প্রসঙ্গ ও বিতর্ক

ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ফের একবার নীতিগত বিতর্কের কেন্দ্রে। ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট কমিশন (UGC) কর্তৃক ২০২৬ সালের জন্য প্রস্তাবিত নতুন ইকুইটি রেগুলেশন বা অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন রুলস কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রশ্ন, উদ্বেগ এবং প্রতিবাদের সুর শোনা যাচ্ছে। যেখানে একদিকে এই নির্দেশিকা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমতা ও ন্যায় নিশ্চিত করার দাবি করছে, সেখানে অন্যদিকে এর কিছু ধারা সামাজিক বিভাজন ও সাংবিধানিক মূল্যবোধকে ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন তুলে ধরছে। ফলে বিষয়টি এখন আর কেবল প্রশাসনিক নয়-এটি জাতীয় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

UGC-এর ভূমিকা : ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। UGC-এর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হল বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য প্রশাসনিক ও নীতিগত নির্দেশিকা প্রণয়ন করা এবং সেগুলির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা। এই ধারাবাহিকতায়, গত ১৩ জানুয়ারি UGC একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করে, যা মূলত ২০১২ সালের জাতিভিত্তিক বৈষম্য বিরোধী নিয়মের ব্যাখ্যার সঙ্গে যুক্ত। পূর্ববর্তী নিয়ম অনুযায়ী, কাস্ট বেসড ডিসক্রিমিনেশন বা জাতিভিত্তিক বৈষম্য বলতে শুধুমাত্র SC, ST এবং OBC শ্রেণীর নাগরিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বৈষম্যকেই বোঝানো হতো। এর ফলে সাধারণ বা অসংরক্ষিত শ্রেণীর পড়ুয়া ও অধ্যাপকরা জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে কার্যত আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিলেন—এটাই এই বিতর্কের মূল কেন্দ্রে উঠে আসে।

প্রেক্ষাপট : বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ যেভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে, তা নিয়ে সমাজের নানা মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। রোহিত ভেমুলা ও পায়েল তাদভি–র মতো ঘটনাগুলি এই ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। বহু ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সময়মতো ও ন্যায্যভাবে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটেই UGC-কে এমন একটি শক্তিশালী ও কার্যকর বিধিমালা তৈরির দাবি উঠেছিল, যা কেবল কাগজে-কলমে নয়, বাস্তব ক্ষেত্রেও প্রয়োগযোগ্য হবে। নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য ছিল বৈষম্য সংক্রান্ত অভিযোগের একটি বিস্তৃত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংজ্ঞা তৈরি করা, যাতে কোনও পড়ুয়া বা শিক্ষক নিজেকে প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার শিকার মনে না করেন।

বিতর্ক ও সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান : তবে UGC-র এই নতুন ও বিতর্কিত বিধিমালা প্রকাশের পর দেশজুড়ে নানা মহলে আপত্তি ওঠে। সমালোচকদের মতে, এই নিয়ম সমাজে আরও বিভাজন তৈরি করতে পারে এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থার মূল ভাবনাকে দুর্বল করতে পারে। রাজনৈতিক চাপ, বিক্ষোভ এবং জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে বিষয়টি গড়ায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে।

বর্তমানে সুপ্রিম কোর্ট এই নতুন নির্দেশিকার উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এর সামাজিক প্রভাব গভীর হতে পারে, তাই চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত এই নিয়ম কার্যকর করা সমীচীন নয়।

UGC ২০২৬-এর ইকুইটি রেগুলেশন আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করার পথ কোনটি? শুধুমাত্র নিয়ম প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, তার ন্যায্য প্রয়োগ ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাও সমানভাবে জরুরি। এই বিতর্ক দেখিয়ে দেয় যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেবল জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, বরং সমাজের মূল্যবোধ গঠনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

Source:

Links: https://vajiramandravi.com

https://scconline.com


Contributed by:

Arpita Sarkar

Arpita is a Fourth Semester student at the Dept. of Political Science, Maynaguri College majoring in Political Science.

Monday, January 26, 2026

সোশ্যাল মিডিয়া ও ভারতীয় রাজনীতি (ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক)


(This is an AI generated image)

একটা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আমাদের ভারতবর্ষের রাজনীতি বলতে বোঝাতো শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রচার, বিরাট জনসভার আয়োজন আর মিটিং মিছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে  প্রস্তর যুগ পেরিয়ে মধ্যযুগ এবং তা পার করে আজ আমরা পৌঁছে গেছি ডিজিটাল বা আধুনিক যুগে। আর এই ডিজিটাল যুগে রাজনীতিও- জনসভা, মিটিং মিছিলের গণ্ডি পেরিয়ে ডিজিটাল মাধ্যম-সোশ্যাল মিডিয়ায় অবতীর্ণ হয়েছে। বর্তমানে অন্যান্য দেশের মতো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতবর্ষেও-ডিজিটাল রাজনীতি দিনের পর দিন ব্যাপক হারে বেড়ে চলেছে। কিন্তু কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতীয় রাজনীতির সূচনা হলো এবং ভারতীয় রাজনীতিতে সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিবাচক এবং নেতিবাচক প্রভাব গুলি কী সেটাই আমাদের মূল আলোচ্য বিষয়।

সূচনা : ২০১৪ সালের পর থেকে ভারতীয় রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন চোখে পড়ে। রাজনৈতিক দলগুলো হয়তো ধীরে ধীরে বুঝতে পারে জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য শুধু সংবাদমাধ্যমের আর উপর নির্ভর করলে চলবে না বরং সোশ্যাল মিডিয়াকেও জনগণের কাছে পৌঁছানোর একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে দেখা উচিত। যদিও ২০১৪ সালের আগেও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যমে যেমন- Twitter, Facebook, Instagram- ইত্যাদিতে রাজনৈতিক মতামত আদান-প্রদান, Post করা হতো, কিন্তু সেটা ছিল খুবই সামান্য।।

ভারতীয় রাজনীতিতে সোশ্যাল মিডিয়া :  

২০১৪ সালের পর সোশ্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়েছে রাজনৈতিক মবিলাইজেশনের ক্ষেত্রে। পলিটিকাল মবিলাইজেশন বলতে বোঝায় সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করা, সংগঠিত করা এবং কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য সক্রিয় করে তোলার একটা প্রক্রিয়া। আগে কাজটি সভা- সমিতি, মিছিল, পোস্টার ও লিফলেটের মাধ্যমে করা হতো। কিন্তু আজ সেই কাজটাই অনেক দ্রুত এবং অনেক বড় পরিসরে হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে।

একটি হ্যাশট্যাগ, একটি ভাইরাল ভিডিও বা একটি আবেগপ্রবণ পোস্ট লক্ষ লক্ষ মানুষকে কোনও রাজনৈতিক ইস্যুতে একসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য করতে পারে। এই কারণে সোশ্যাল মিডিয়া আজ শুধুমাত্র মত প্রকাশের জায়গা নয়,বরং এটি একটি রাজনৈতিক সংগঠনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

যখন থেকে ভারতীয় রাজনীতিতে সোশ্যাল মিডিয়া যুক্ত হয়েছে বা সোশ্যাল মিডিয়ার পলিটিক্স শুরু হয়েছে তখন থেকে ভারতীয় পলিটিক্সের কিছু নতুন দিক আমরা লক্ষ্য করতে পারি। বলা চলে ভারতীয় রাজনীতিতে সোশ্যাল মিডিয়া পলিটিক্সের একটা বিরাট বড় প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেমন-

•⁠  ⁠বর্তমানে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলই নিজেদের শক্তিশালী সমর্থক দল তৈরি করার ক্ষেত্রে,

•⁠  ⁠নিজেদের প্রচারের ক্ষেত্রে এবং

•⁠  ⁠বিশেষ করে বিরোধী দলের ভুলত্রুটি জনগণের সামনে তুলে ধরা এবং তাদের দুর্বল করে তোলার ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে চলছে। 

প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলই এখন 'Digital War Room'-কে রাজনীতি নতুন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিমূলক বিজ্ঞাপন, নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য আলাদা বার্তা,আবেগনির্ভর কনটেন্ট- সবই দেখা যাচ্ছে বর্তমান ভারতীয় রাজনীতিতে। রাজনীতি এখন আর শুধু নীতি আর আদর্শের লড়াই নয়, এটা মনোযোগ পাওয়ারও লড়াই।

সোশ্যাল মিডিয়া পলিটিক্স ও যুব সমাজ

রাজনৈতিক দল এবং নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জনগণ এবং বিশেষভাবে যুব সমাজের ওপরেও সোশ্যাল মিডিয়া পলিটিক্স এর একটি বড় প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। যুব সমাজ হলো সোশ্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে সক্রিয় অংশ। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনীতি দেখে, শেখে এবং বোঝে। যারা হয়তো কখনও রাজনৈতিক সভায় যেত না, তারাও কোনো না সক্রিয় রাজনীতির অংশ হয়ে পড়ছে। হয়তো কখনো বুঝেশুনে আবার কখনো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই না বুঝেই তারা নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ তৈরি করে ফেলছে, মতাদর্শের সঙ্গে মিল খায় এমন রাজনৈতিক সংগঠনগুলির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এটা ভালো না খারাপ—এই বিতর্ক চলতেই পারে।

কিন্তু একটা কথা অস্বীকার করা যায় না—

সোশ্যাল মিডিয়া বহু তরুণকে রাজনীতির সঙ্গে প্রথমবার যুক্ত করেছে।

ভারতীয় রাজনীতিতে সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিবাচক প্রভাব:

সোশ্যাল মিডিয়ার পলিটিক্সের কিছু স্পষ্ট সুবিধা আছে। যেমন- সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যমগুলো যেহেতু সবার জন্যই খোলা রয়েছে সেই কারণে যারা সরাসরি রাজনৈতিক দলগুলির কাছে নিজেদের নেতা কর্মীদের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক দাবি-দাওয়া গুলি পেশ করতে পারেন না তারাও সোশ্যাল মিডিয়া পলিটিক্সের অংশ হয়ে নিজেদের রাজনৈতিক মত প্রকাশ করতে পারেন। সামান্য একটি শক্তিশালী হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে জনগন নিজেদের একটি আঞ্চলিক বিষয় বা দাবিকেও একটি বিরাট অংশের জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারেন। একইভাবে জনগণ চাইলে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোরালো আন্দোলন শুরু করে সরকারকে নিজের সিদ্ধান্ত বদল করতেও বাধ্য করতে পারে।।

ভারতীয় রাজনীতিতে সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব : 

নিঃসন্দেহে সোশ্যাল মিডিয়া জনগণ এবং জন-কর্মীদের মধ্যেকার দূরত্ব অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। জনগণ নতুনভাবে নিজেদের দাবি দাওয়া নিজেদের মূল্যবান মতামত রাখার জায়গা পেয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকটি কয়েনের দুটো দিক থাকে...এক্ষেত্রেও সেই একই জিনিস রয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় রাজনীতিতে সোশ্যাল মিডিয়া পলিটিক্সের সবচেয়ে খারাপ যে দিক গুলো দেখা যায়, তা হলো-

১) প্রথমত : বর্তমানে ছোট-বড় প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের একটি শক্তিশালী সমর্থক দল তৈরি করার ক্ষেত্রে প্রচুর বিজ্ঞাপনে অর্থ প্রচার করছে। 

২) দ্বিতীয়ত :  বর্তমানে যে কেউ নিজের সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেক নিউজ বা এমন কোন ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিতে পারে যা সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। 

৩) তৃতীয়ত : সোশ্যাল মিডিয়াতে মানুষজন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই  নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে মিল খায় বা সামঞ্জস্যপূর্ণ কনটেন্টই দেখতে বেশি পছন্দ করে।  এভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে গুলি পরস্পর বিরোধী সামাজিক শ্রেণীবিভাজন সৃষ্টি করছে। 

৪) সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হওয়া সামান্য রাজনৈতিক আলোচনা, কমেন্টও যদি কারোর নিজস্ব মতাদর্শ বা ব্যক্তিগত পছন্দের উপর আঘাত হানে তখন তা আবেগ ও যুক্তিকে ছাপিয়ে ব্যক্তিগত বা বড়সড় সামাজিক আক্রমণে পরিণত হতে পারে।।

উপসংহার :  সোশ্যাল মিডিয়া ভারতীয় রাজনীতিকে বদলে দিয়েছে—এটা সত্য। কিন্তু এই পরিবর্তন ভালো না খারাপ, সেটা নির্ভর করছে কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়াকে রাজনীতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটার উপর। হয়তো ভবিষ্যতের রাজনীতি আরও ডিজিটাল হবে কিন্তু সেই রাজনীতি যদি মানবিক না হয়,তাহলে শুধু প্রযুক্তি দিয়ে গণতন্ত্র বাঁচানো সম্ভব নয়।

Contributed by:

Ajit Rajbanshi

Ajit is a Sixth Semester student reading Political Science (Major) at Maynaguri College.

Friday, November 22, 2024

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন



গত ৫ ই নভেম্বর মার্কিন নির্বাচনী প্রথা মেনেই  নভেম্বর মাসের প্রথম মঙ্গলবার ৬০ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যেখানে মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের  প্রধান এবং বৃহৎ দুটি দল, একটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অপরটি রিপাবলিকান পার্টি - এর মধ্যে   হাড্ডাহাড্ডি লড়াই লক্ষ্য করা গিয়েছিল। তবে অন্যভাবে বলা যায়  কমলা হ্যারিসের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের  হোয়াইস হাউসের অধিকার নিয়ে  হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চোখে পড়ার মতো ছিল । সেখানে অবশ্য শেষমেষ ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে পিছনে ফেলে রিপাবলিকান পার্টি অর্থাৎ কমালা হ্যারিসকে  পিছনে ফেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হয় ।এক্ষেত্রে কমলা হ্যারিস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইলেক্টোরাল কলেজের মোট ৫৩৮ টি ইলেক্টোরাল ভোটের মধ্যে মোট ২২৬ টি এবং অপরদিকে ডোনাল্ড ট্যাম্প ৩১২ টি সদস্য ভোট পেয়েছে। এরফলে বেশি সংখ্যক ৩১২ সদস্য ভোটে পেয়ে ডোনাল্ড ট্যাম্প জয়ী হন।

তবে এত গেল ২০২৪ -এর কথা। আপনি কী জানেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি। সেই পদ্ধতিই বা কী? 

আমি বা আপনি মূলত ভারতীয়রা যেভাবে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন প্রতক্ষ্য ভাবে করে থাকি ,কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমনটি হয় না। এখানে মার্কিন জনগণ পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে থাকেন। আরেকটু  বিষয়টি বিস্তারিত ভাবে বলা যাক -

এক্ষেত্রে আগেই বলে রাখা ভালো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের  রাষ্ট্রপতি মূলত ৪ বছরের জন্য নির্বাচিত হন । ৪ বছর পর পুনরায় আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ।

এবারে আসি মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়াটি নিয়ে, 

মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়াটি বুঝতে গেলে কয়েকটি ধাপ বা পর্যায়ে বোঝা সম্ভব। সেই  পর্যায় বা ধাপগুলো কী কী? আসুন জেনে নিই সেই পর্যায় গুলো-

প্রথম পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে।

প্রথম শর্তটি হল, প্রার্থীকে অবশ্যই জন্ম সূত্রে  যুক্তরাষ্ট্রের নাগরীক হতে হবে,

দ্বিতীয় শর্তটি অনুয়ায়ী প্রার্থীর বয়স অন্তত ৩৫ বছর হবে। এবং

 তৃতীয় শর্তটি  হল  অন্তত ১৪ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে মার্কিন সেনাবাহীনী জন্য শেষ তৃতীয় শর্তটি ব্যতিক্রম ।  

এবার আসা যাক দ্বিতীয় পর্যায়ে, যেখানে প্রার্থীর যোগ্যতা নিয়ে।  এ ব্যাপারে ইলিয়ন স্টেটের ডেপল বিশ্ববিদ্যালয়ের  অধ্যাপক ওয়েন স্টেগার ডয়চে ভেলেকে বলেন, প্রাপ্ত বয়স্ক যে কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে  প্রার্থী হতে  পারেন । এমনকি দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরও প্রার্থী হতে কোনো বাধা নেই। এক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে আলাদা বিধান রয়েছে। যাতে রাজনৈতিক বন্দিরাও বঞ্চিত না হয় প্রার্থী হওয়া থেকে। 

তবে  যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪ তম সংশোধনীতে বলা হয়েছে যে, রাজনৈতিক পদে থাকা কোনো ব্যক্তি দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে যুক্ত হলে বা শত্রুদের সহায়তা করলে সে এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন । অর্থাৎ সে  প্রার্থী হতে পারবেন না।

এর পরের পর্যায়ে হল প্রাইমারী ও ককাস । আসলে এই প্রাইমারী ও ককাসের মাধ্যমে মূল প্রতিদ্বন্দিতায় প্রার্থীর সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়। মার্কিন লড়াই এর ময়দান উন্মুক্ত থাকলেও এই দুই পদ্ধতিতে দল গুলো তাদের প্রার্থী বাছাই করে এবং প্রার্থীর সংখ্যা কমিয়ে আনে। এক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় নির্বাচনী বছরের বসন্তের শুরুর দিকে ।

তবে  এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো যে, মূলত প্রাইমারী পদ্ধতিতে  গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দলের নির্বাচন সম্পন্ন হয়ে থাকে। আর ককাস  পদ্ধতিতে  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ টি অঙ্গরাজ্যের সদস্যরা একত্রে উপস্থিত হয়ে ভোটের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থী বাছাই করেন।

এক্ষেত্রে প্রাইমারির চেয়ে ককাসে পদ্ধতিটি একটু ঝক্কির। তবে প্রাইমারী ও ককাস কিন্তু একই কাজ করে অর্থাৎ এ সাধারণ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী নির্বাচন করে থাকে ।

এর পরের পর্যায়টি হল জাতীয় কনভেনশনের ভূমিকা। এই জাতীয় কনভেনশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রার্থী এবং রানিং মেট বা উপরাষ্ট্রপতির জন্য প্রার্থী নির্বাচন করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ টি অঙ্গরাজ্যের ডেলিগেট বা প্রতিনিধির  সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রার্থীকে পেতে হয়।

এই  ডেলিগেট বা প্রতিনিধির মধ্যেও দুটি ভাগ রয়েছে। যেমন ডেমোক্র্যাটদের  ক্ষেত্রে বলা হয় প্লেজড বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আনপ্লেজড বা অপ্রতিশ্রুতিবদ্ধ । আবার রিপাবলিক পার্টির ক্ষেত্রে  বাউন্ড বা বাধ্যতামূলক এবং  আনবাউন্ড বা অবাধ্যতামূলক প্রতিনিধি বা ডেলিট রয়েছে।

যেখানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও বাধ্যতামূলক প্রতিনিধিরা কেবলমাত্র অঙ্গরাজ্য থেকে প্রাইমারিতে জিতে আসা প্রার্থীকেই ভোট দিতে পারেন।

তবে অপ্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও অবাধ্যতামূলক প্রতিনিধিরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।

এরপর আসে কনভেনশনের নির্বাচন প্রক্রিয়া জাতীয় কনভেনশনের পর্ব কাটার পরই নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। নির্বাচনের দিনে দেশজুড়ে রীতিমতো কয়েক হাজার শহরে ভোট প্রক্রিয়া চলে। নিবন্ধিত যে কোনো মার্কিন নাগরিক এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নিজের ভোটদানের মাধ্যমে অংশ নিতে পারেন। মার্কিন জনগন তাদের ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধিদের নির্বাচন করে থাকেন।

এরপর সবচেয়ে পুরত্বপূর্ণ ও শেষের পর্যায়টি হল ‘ইলেকটোরাল কলেজ’ । এই  ইলেকটোরাল কলেজের মাধ্যমেই মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন , বলা ভালো মার্কিন প্রেসিডেন্ট কে হবেন তা নির্ধারন করে এই ‘ইলেকটোরাল কলেজ'। ইলেকটোরাল কলেজে মোট ৫৩৮ জন ইলেকটর  নির্বাচিত হয় । এরপর তারাই সবশেষে নির্ধারণ করেন, মার্কিন রাষ্ট্রপতি কে হবেন।  

  এক্ষেত্রে ইলেকটোরাল সংখ্যা হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের  কংগ্রেসের উভয়কক্ষের ইলেক্টোরাল সংখ্যা । অর্থাৎ নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ ও কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে সদস্য সংখ্যা । তবে এক্ষেত্রে  প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ  ইলেক্টোর সংখ্যা নির্ভর করে  মার্কিন অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যার ওপর  এক্ষেত্রে প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ মোট ৪৩৫ টি ইলেক্টোরাল ভোট।এক্ষেত্রে  ক্যালিফোর্নিয়ায় সবচেয়ে বেশি ইলেক্টোরাল ভোট রয়েছে মোট ৫৪ টি ইলেক্টোরাল ভোট। অপরদিকে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে প্রতি অঙ্গরাজ্যের থেকে দুটি করে করে প্রতিনিধি থাকে । ৫০ টি অঙ্গরাজ্য থেকে ২ জন করে মোট ১০০ টি ইলেক্টোরাল ভোট।

সবমিলিয়ে ৫০টি রাজ্যের রিপ্রেজেনন্টেটিভ  ৪৩৫ জন ও সিনেটের ১০০ জন। এছাড়া ডিজিস্ট্রট অব কলম্বিয়ার ৩ টি ইলেক্টোরাল ভোট। এই সমস্ত মিলিয়ে ৫৩৬ টি ইলেক্টোরাল ভোট।

এক্ষেত্রে নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে জয়ী হতে গেলে সংখ্যাগরিষ্টতা পেতে হয়। এক্ষেত্রে অন্তত ২৭০ টি ইলেকটোরাল ভোট পেতে হয়।

তবে এক্ষেত্রে আরেকটু বলে রাখা ভালো মার্কিন আইনানুসারে নিয়মানুসারে ,মেইন এবং নেব্রাস্কা  ছাড়া বাকি অঙ্গরাজ্যগুলিতে 'উইনার টেকস অল’ ভিত্তিতে ভোট নির্ধারিত হয়ে থাকে। এর অর্থ হল কোনো প্রার্থী যে রাজ্যে এগিয়ে আছে থাকবেন, তিনি সেই রাজ্যের সবগুলি ভোট বা ইলেকটরের সমর্থন পাবেন।

সবশেষে নতুন বছরের শুরুতে অর্থাৎ জানুয়ারী মাসে রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণ করেন। আর এভাবেই মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়।

Contributed by:

Nimai Sarkar

Nimai is a Fifth semester students studying Political Science Hons. at Maynaguri College.

Source: প্রথম আলো

Link: https://www.prothomalo.com/world/usa/y9tzlck9w3 

Image Courtesy: https://images.app.goo.gl/86pEKYTZ6QcAWViF7

Wednesday, November 20, 2024

রাশিয়া - ইউক্রেন যুদ্ধের ১০০০ দিন , পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত পুতিনের



মঙ্গলবার (19th November 2024) ১০০০ দিন পূর্ণ করল রাশিয়া ইউক্রেন সংঘাত। আর এই দিনেই পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের স্পষ্ট ঘোষণা এবার থেকে পরমাণু শক্তিধর নয় এমন দেশেও হামলা চালাতে পারে রাশিয়া। সম্প্রতি ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন অস্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট  জো বাইডেন । তার পাল্টা জবাব দিতেই পুতিন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

পুতিনের স্বাক্ষরিত নয়া পরমাণু নীতিতে বলা হয়েছে, কোন পরমাণু শক্তিধর দেশের সাহায্যে যদি রাশিয়ার মাটিতে পরমাণু শক্তিধর নয় এমন কোন দেশ হামলা চালায় তাহলে রাশিয়া সেই দেশে আক্রমণ চালাবে । পরমাণু শক্তি না হওয়ার সত্ত্বেও সেই দেশটিতে হামলা চালাতে পিছুপা হবে না রাশিয়া। এই নীতি চালু করার প্রক্রিয়া যদিও অনেকদিন আগে থেকেই শুরু করেছিল ক্রেমলিন। তবে জো বাইডেন  ইউক্রেনকে আমেরিকার দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিতেই নয়া পরমানু নীতিতে সিলমোহর দিলেন পুতিন।

 প্রথমবারের মতো রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি দূরপাল্লার এটিএসিএমএস (ATACMS) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। এই হামলা নিয়ে এবার মুখ খুলেছে ক্রেমলিন।

প্রতিবেদন মতে, মার্কিন সরকার ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে আঘাত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরে এবং রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের ১০০০ তম দিনে এমন সিদ্ধান্ত নিলেন পুতিন ।


Contributed by:

Suchitra Roy

Suchitra is a Fifth Semester Hons. student studying Political Science (Hons.) at Maynaguri College.


News Source : somoynews.tv

Link:https://www.somoynews.tv

Image Courtesy: https://www.atlanticcouncil.org/blogs/ukrainealert/ukraine-crisis-deterring-putin-is-expensive-but-much-cheaper-than-war/

Tuesday, November 19, 2024

Iran & Israel conflict



ইরান আর ইসরায়েল এ বর্তমান যুদ্ধ সৃষ্টির কারণ ,  ছায়া যুদ্ধের পর এবার সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত হলো ইরান আর ইসরায়েল !

বহুকাল থেকেই  ইরান একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করে এসেছে ; ইরান আর ইসরায়েল  দুটোই ক্ষমতাশালী রাষ্ট্র বহুদিন ধরেই  রাষ্ট্র দুটির মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে যার ফল বর্তমান এই  ভয়াবহ যুদ্ধ। ইরান এর সাথে ভারত এর ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে , উল্টো দিকে ইসরায়েল এর সাথে আমেরিকা আর একটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রয়েছে ।                                       

তবে বর্তমানে দুই রাষ্ট্র কেই  অস্ত্র ত্যাগ করতে  অনুরোধ করছে রাষ্ট্রপুঞ্জ , কারণ দীর্ঘদিন ধরে যদি এই যুদ্ধ চলতে থাকে তবে দুই রাষ্ট্ররই  ক্ষয় ক্ষতি চড়ম সীমায় পৌছে যাবে । বিগত এক বছর ধরে ইরান ইসরায়েল এ প্রায় ৪০০ টা মিসাইল নিক্ষেপ করে, যার পরিবর্তে বর্তমানে কাউন্টার  অ্যাটাক করছেন ইসরায়েল  বর্তমান ঘটনা সূত্রে জানা যায় যে ইরান এর বিভিন্ন সেনা ঘাঁটি আর সেনাবাহিনী অফিসে ও হামলা করেন ইসরায়েলি সেনা।          

তবে বর্তমানে রাষ্ট্র সংঘর খবর সূত্রে যা জানা যায় ইসরায়েল কাউন্টার অ্যাটাক করার ফলে নিজের ক্ষমতা কে বোঝানোর জন্য ইরানি রাষ্ট্র সচিব  যুদ্ধে লিপ্ত হয় । মধ্যপ্রাচ্যের ইরান ৫ টি দেশে বর্তমান এ আতঙ্কের মুখে, কারণ সেখানে মিসাইল হামলার হুমকি দেন ইরান ।

এ ছাড়া এই বিষয়ে ভারতের এর প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তিনি ইরান ইরান এর মন্ত্রী সভা ভ্রমণ করেন, তবে ভারত এর সাথে দুই রাষ্ট্র এর আন্তর্জাতিক সুসম্পর্ক  রয়েছে , আর বলা চলে এখনও অবধি ভারত কোন রাষ্ট্র এর পাশে দাঁড়াবে সেই খবর এখনও অজানা।


Contributed by:

Sheuli Roy

Sheuli is a Fifth semester student studying Political Science Hons. at Maynaguri College.

Source: TV9 Bangla 

Link:https://www.youtube.com/live/ohEMgPtNFj0?si=vpNt3p-v1kCNqCrD

Image Courtesy: The Economic Times, 

Link: https://img.etimg.com/thumb/msid-113902012,width-210,height-158,imgsize-243416,resizemode-75/istock-1743104649.jpg

Wednesday, November 13, 2024

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ব্যালট কাগজে স্থান পেল বাংলা ভাষা… ..

 বর্তমানে সমস্ত বিশ্বের মানুষ যে বিষয়টির ওপর নজর রেখেছিল  তা হল পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও উন্নত দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে। 

এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি পদে ফেরার দৌড়ে, অন্যভাবে বলা যায় হোয়াইট হাউসের  দৌড়ে ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে লড়াই ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলা হ্যারিসের। বর্তমানে বলাই যায় ভারত ও ভারতীয়রা যে বিশ্ব দরবারে  এক উল্লেখযোগ্য আধিপত্য বা নিজের জায়গা তৈরি করেছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

তবে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে ভারতীয় দের বিশেষ করে বাঙালিদের গর্ব করার বিষয় রয়েছে সেটা কী জানেন ?এবার শুধু ভারত আর ভারতীয় নয় এবারে বিশেষ করে বাঙালিদের বাংলা ভাষা জায়গা পেয়েছে আমেরিকান  রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট পেপারে । শুধু তাই নয় ভারতীয় ভাষা হিসেবে একমাত্র জায়গা করে নিয়েছে এই বাংলা ভাষা। 

এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো নিউইয়র্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ব্যালট পেপারে বাংলা ছাড়াও আরো অন্য তিনটি ভাষা স্থান পেয়েছে। যেমন- কোরিয়ান, স্প্যানিশ, চিনা ভাষা।এক্ষেত্রে নিউইয়র্কে প্রায় অনেক   বাঙালি মার্কিন বসবাস করেন।  তাদের  সুবিধার্থেই ব্যালট পেপার সহ নির্বাচন সংক্রান্ত অন্যান্য  নির্দেশাবলীতে বাংলা ভাষার ব্যাবহার করা হয়েছে।  এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে  একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই সর্বপ্রথম ২০১৩ সালে বাংলা ভাষার অন্তভুক্তি ঘটেছিল।

এপ্রসঙ্গে নিউইয়র্ক শহরের বোর্ড অর ইলেকশনস্ -এর ডিরেক্টর মাইকেল জে রায়ান জানিয়েছেন - ইংরেজি ভাষার বাইরেও অন্যান্য সাধারন মানুষের সুবিধার্ধে আরও চারটি অন্যান্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন- কোরিয়ান, স্প্যানিশ, চীনা এবং ভারতীয় ভাষার মধ্যে বাংলা ।  সবমিলিয়ে  বলাই যায় বাঙালি তথা ভারতের সঙ্গে যে আমেরিকার সুমধুর সম্পর্ক, তাতে একটি  সেতু হিসেবে কাজ করবে এই বাংলা ভাষা।

Contributed by:

Nimai Sarkar


Nimai is a Fifth semester student studying Political Science Hons. at Maynaguri College.


Source: News 18Bangla

Link: https://bengali.news18.com/news/international/us-election-2024-ballot-papers-in-newyork-city-to-have-candidate-names-in-bengali-arc-1933282.html

রাজনীতি কি শুধুই ক্ষমতার লড়াই, নাকি আমাদের প্রতিদিনের বেঁচে থাকা? গণতন্ত্র, যুবসমাজ ও আমার ভাবনা

সত্যি বলতে  রাজনীতি বিষয়টা নিয়ে আগে আমার অনেক ভুল ধারণা ছিল আমি ভাবতাম রাজনীতি মানেই তো টিভিতে দেখা চিৎকার চেঁচামিটি ভোটের আগে মিছিল আর ফে...